দুরবিনে কি এমন দেখেছিলেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও? যার ফলে এত নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল তাকে!

এটা সকলেরই জানা যে,বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ছিলেন একজন গণিতবিদ ও পদার্থ বিজ্ঞানী। তার অনেক অবদান আছে বিজ্ঞান ক্ষেত্রে।তার মধ্যে দুরবিন আবিষ্কার অন্যতম।১৬০৮ সাল গ্যালিলিওর বয়স তখন ৬৮ বছর।এই সময় তিনি শুনতে পান যে,ফ্লাডাস এর এক ব্যক্তি নাউস এর কাউন্ট মরিসকে এমন একটা যন্ত্র তৈরি করে উপহার দিয়েছেন, যেটা দিয়ে দূরের জিনিসকে কাছে দেখা যায়। আর যন্ত্রটিতে ব্যবহার করা হয়েছে শুধু দুটি লেন্স।
খবরটি শোনামাত্রই কাজে লেগে গেলেন তিনি।অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেলো তার নিজস্ব দুরবিন। খুব শিগগিরই গ্যালিলিওর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল সারা ইউরোপে। রাজা রাজরা তাকে অনুরোধ করে পাঠাতে লাগলেন তাদেরও অমন একটই দুরবিন তৈরি করে দেওয়ার জন্য।গ্যলিলিওর এসব আবিস্কার কোপার্নিকাসের ধারণাকে সমর্থন করলো। ফলে আ্যরিস্টটলের মতের অনুসারীরা এবং গির্জার পুরোহিতরা তার ওপর খড়গহস্ত হয়ে ওঠে।১৬১৩ সালে তার ‘ লেটার অন দি সোলার স্পটস’ বইটি প্রকাশিত হয়।এই গ্রন্থে তিনি কোপার্নিকাসের সৌরতত্ত্বকে সমর্থন করেন।
তাই দেখে ক্ষেপে উঠল গির্জার পুরোহিতের দল। শূরু হলো তার ওপর নির্যাতনের পালা।১৬৩২ সালে তার প্রকাশিত ‘ টলেমিক আ্যন্ড কোপর্নিকান’ বইয়ে তিনি আ্যরিস্টটলের অনুসারীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এবার নেমে এলো চরম নির্যাতন। পোপের সমন গেলো তার কাছে।তাকে যেতেই হবে ইতালির রোম নগরে।পোপের আদালতে ইনকুইজিশন হবে তার।
বৃদ্ধ গ্যলিলিওকে বন্দী করে আনা হলো রোম নগরে। দাড় করানো হলো আসামীর কাঠগড়ায়। কিন্তু অপমান আর লান্চ্ছনার শেষ ওখানেই নয়। তাকে নাকি জোর করে হাটু গেড়ে বসানো হলো , তাকে নাকি জুলুমের চোটে বলতে বাধ্য করা হয় যে,ওই রকমের বই লিখে তিনি অন্যায় করেছেন। তবে জুলুমের চোটে বললেও মনে তিনি অবিচল ছিলেন। তাই উঠে দাড়াবার পর তিনি নাকি অধৈর্য হয়ে মাটিতে পা ঠুকে চীৎকার করে উঠেছিলেন : কিন্তু তবুও, সত্যিই যে পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে।
তার এই দুঃসাহসের জন্য বিচারকেরা তাকে ক্ষমা করেনি। ফলে তাকে বাকি জীবনটা কাটাতে হয় গৃহবন্দি হয়ে।
Previous
Next Post »