অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতায় উল্লেখ থাকে যে, অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ একজন দূর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছেন। জীবনের প্রতিটি খুটিনাটি ঘটনা সেই একজনের বিশাল বড় ঐশ্বরিক প্ল্যানের অংশবিশেষ। আর প্রাচীন সভ্যতায় উল্লেখিত এই ঐশ্বরিক প্ল্যান বুঝতে পারার জন্য পৃথিবীর একমাত্র উপায় ‘ময়ান পঞ্জিকা’।
কিন্তু কী আছে মায়ান ক্যালেন্ডারে? জিনিসটাই বা কী?
পুরাতন সেই মায়ান সভ্যতা ইতিহাসের এক অনুপম সৃষ্টি। সময় এবং সৃষ্টির সুন্দর বিন্যাস সম্পর্কে মায়ানরা অনেক আগেই অবগত ছিলেন।তাদের ছিল ভবিষৎ জানার নান্দনিক ক্ষমতা। মায়ানরা আগে থেকেই জানতো যে,চাঁদ,শুক্র এবং অন্য গ্রহ – তারা মহাবিশ্বে চক্রাকারে ঘুরছে।সেই সময়েই তারা নিঁখুতভাবে সময় গণনা করতে পারত। তাদের একটি পঞ্জিকা ছিল যাতে সৌর বছরের প্রতিটি মিনিটের নিঁখুত বর্ণনা ছিল।
মায়ানরা মনে করতো প্রতিটি জিনিসের উপর সময়ের প্রভাব রয়েছে এবং প্রতিটি জিনিস একেক সময় একেকটি অবস্থানে বিরাজ করছে।মায়ানদের কাছে মহাকাশের উপর ২২ টি ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকা ছিল।এদের মধ্যে কোনো কোনো পঞ্জিকা এখান থেকে ১০ মিলিয়ন বছর আগের।আর সেগুলো এত দুর্বোধ্য যে তা বুঝতে চাইলে হিসাব নিকাশ করার জন্য সঙ্গে অবশ্যই একজন আ্যস্ট্রোনোমার, আ্যস্ট্রোলজার, জিওলজিস্ট,এবং ম্যাথমেটিশিয়ান থাকতে হবে।
অধিকাংশ আর্কিওলজিস্ট মনে করেন মায়ানরা খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩ হাজার ১১৪ বছর আগে থেকে সময় গণনা করা শুরু করেছে। আমাদের বর্তমান পঞ্জিকা মতে খ্রিস্টের জন্মের বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রথম বছর গণনা করা হয়।আর মায়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই বছরটাকে হিসাব করা হয় শূন্য বছর। এই সময়টাকে লিখা হয় এভাবে: ০-০-০-০।একটা নতুন চক্র শুরু হওয়ার আগে ১৩ চক্রের ৩৯৪ বছর শেষ হয়ে যাবে।আর নতুন চক্রটি শুরু হবে ২০১২ সালে।
সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হলো ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে মায়ান পঞ্জিকাতে আর কোনো দিনের উল্লেখ নেই। তাই এই দিনটিকে মনে করা হয়েছিল পৃথিবীর সর্বশেষ দিন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ২০১২ সালেই কেন এ ক্যালেন্ডারের সমাপ্তি? মায়ান ক্যালেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন,২০১২ সালে পৃথিবীতে কোনো না কোনো দুর্যোগ অবশ্যই নেমে আসবে।অনেকের মতে, ২০১২ সাবলের ২১ ডিসেম্বরের পর থেকে পৃথিবী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে।কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি।
আবার এ ক্যালেন্ডার সম্পর্কে ভিন্ন মতবাদও আছে।সেই মতানুসারে,এই সময়ে এসে অর্থাৎ ২০১২ এর ক্রান্তিলগ্নে এসে আমরা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছি। পৃথিবী ব্যালেন্সের বাইরে চলে গেছে। পৃথিবী যা ডিজার্ভ করে তার অনেক ঊর্ধে চলে গেছে পৃথিবীর সভ্যতা।তাই মায়ানদের ক্যালেন্ডারে আর কোনো লিখিত হিসাব রাখা হয়নি বা রাখা সম্ভব হয়নি।
অনেকের মতে, এই দিনটি হবে মানব সভ্যতার শেষ দিন এরকমই তাদের বিশ্বাস। অন্তত মায়ান সভ্যতা এবং ক্যালেন্ডারে যাদের আস্থা তাদের বিশ্বাস এরকমই ছিল।
Sign up here with your email
ConversionConversion EmoticonEmoticon