অদ্ভূত ইচ্ছে রিশি সোয়ার। জন্ম ইংল্যান্ডে।রবিনসন ক্রুসোর মতো নির্জন একটা দ্বীপের মালিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার।আর সেই দ্বীপটি অবশ্যই হতে হবে অভিনব। এমনই অভিনব বোতল দ্বীপ তৈরি করেছেন রিশি সোয়া। দীর্ঘ ছয় বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মেক্সিকোর সমুদ্র উপকূলে তিনি তৈরি করেছিলে তার স্বপ্নের বোতল দ্বীপ।সৌরশক্তি সঞ্চয়ের জন্য সেখানে সোলার প্যালেনও বসিয়েছিলেন।উদ্দেশ্য ছিল সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রান্না করে সবাইকে পরিবেশ সচেতন করে তোলা।
তবুও রিশির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সবাই পাগলামী হিসেবেই দেখলো।অনেকেই একে স্বাভাবিকভাবে নিলো না।ফলে মেক্সিকো থেকে বিতাড়িত হলেন রিশি।মেক্সিকো থেকে বিতারিত হয়ে রিশি চলে আসেন পুয়ের্ত আ্যভেনচুরাসে। সেখানে আবারো সে একই কীর্তি করে। প্রায় আড়াই লাখ প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করে অচিরেই নতুন দ্বীপ তৈরী করে ফেলে তিনি। কিন্তু দ্বীপটি তৈরির প্রায় বছর খানেকের পরই এক সামুদ্রিক ঝড়ে এটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
কৌশলে পরিবর্তন আনলেন। অনেক ভেবে চিন্তে বৈজ্ঞানিক উপায়ে দ্বীপটিকে নতুনভাবে রুপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। শেষ পর্যন্ত তার ভাবনা কাজে লাগলো।বাঁধনটা যেন শক্ত হয়,সেজন্য ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলের চেয়ে কিছুটা পেচানো বোতল সংগ্রহ করার পর,নষ্ট না হয় এরকম জালে আড়াই লাখ বোতল বেধে ভাসিয়ে দিলেন পানির ওপর। দাঁড়িয়ে গেল রিশির দ্বীপ। আবহাওয়া ঠিক রাখার জন্য গাছপালাও লাগিয়ে দিলেন সেখানে।দ্বীপে একটি দোতলা বাড়ি আর সৌরশক্তি সম্পন্ন রান্নার ব্যবস্থা ছিল।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, ২০০৫ সালের এমিলি হ্যারিকেনে দ্বীপটি অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হলো।তবু দমে যাননি রিশি।নতুন উদ্যমে ক্যানক্যানের কাছে আইলা মুজেরেসেয় ২০০৭-২০০৮ সালে নতুন করে ৬০ ফুট ব্যাসের দ্বীপটি তৈরি করেন।এবার দ্বীপের নাম দিলেন ‘স্পাইরাল আই্যান্ড’। এবার এক লাখ বোতল ব্যবহার করলেন তিনি। দ্বীপে বোতলের ওপর মাটি ফেলে চাষের উপযোগি করলেন।কাঠ আর শুকনো পাতা দিয়ে তৈরি করলেন ছোট্ট সুন্দর কুটির।
এমনকি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও আছে।সেখানে রয়েছে ছোট্ট জলাশয়,জল প্রপাত ও নদী। দ্বীপের গঠন এখন অনেক মজবুত।তাই ঝড়ে আর খুব বেশি সমস্যা হয় না রিশির।২০০৮ সালে এই দ্বীপটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।এখন এটি একটি দারুন পর্যটন স্পটও বটে।
Sign up here with your email
ConversionConversion EmoticonEmoticon